ভ্রমণ কেবল সুখের জন্য নয়, ভ্রমণ মানে একটি পুরো জার্নি। ভ্রমণ মানে দূর
অজানাই হারিয়ে যাওয়া, ভ্রমণ মানে প্রকৃতির সাথে কথা বলা। তাইতো ভ্রমণ
করতে এতো ভালো লাগে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার আমরা সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ
পাহাড়, খৈয়াছড়া ঝর্না ও গুলিয়াখালি সমুদ্র সৈকতে কিছু সময়ের জন্য হারিয়ে
যাবো ।
কর্মব্যস্ত জীবনে অনেকেই বেশ কয়েকদিন হাতে নিয়ে ঘুরতে
যাওয়ার সময় পান না। একদিনেই ভ্রমণের জন্য বিভিন্ন গন্তব্যের খোঁজ করেন।
তাদের জন্য চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড ভ্রমণ ।
এবারের পর্বে আমরা সীতাকুণ্ডের বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় স্পট নিয়ে আলোচনা করবো।
এর মধ্যে থাকছে কি কি দেখবেন ? কিভাবে যাবেন? কিভাবে ঘুরবেন? কোথায় খাবেন? ও কিছু সতর্কতা ।
ঢাকা থেকে সীতাকুণ্ড কিভাবে যাবেন ?
ঢাকা থেকে আপনি বাস ও ট্রেনে সীতাকুণ্ডে যেতে পারবেন ।
বাস
: বাসে সীতাকুণ্ডে বর্তমান ভাড়া গাড়ী বেধে ৪৫০ - ৬০০ টাকা। ঢাকা থেকে
সরাসরি সীতাকুণ্ডে আসতে পারবেন । সীতাকুণ্ড বাজারে নেমে সকালের নাস্তা সেরে
জনপ্রতি ২০ টাকা ভাড়ায় চলে যাবেন চন্দ্রনাথ পাহাড়।
ট্রেন :
মেইল ট্রেনে ঢাকা থেকে ১০০-১২০ টাকায় সীতাকুণ্ড স্টেশনে যাওয়া যায়। এর
জন্য আপনাকে স্টেশনের কাউন্টার থেকে টিকিট কাটতে হবে ।
সীতাকুণ্ডে স্টেশনে নেমে সকালের নাস্তা সেরে
জনপ্রতি ২০ টাকা ভাড়ায় চলে যাবেন চন্দ্রনাথ পাহাড়।
চন্দ্রনাথ পাহাড়
চন্দ্রনাথ
পাহাড়ে ওঠার আগে কিছু দোকান পাবেন সেখানে আপনার ব্যাগ বা অন্য জিনিস পত্র
রাখতে পারেন। এর সামনেই দেখবেন কিছু লোক বাঁশ বিক্রি করছে সেখান থেকে ৩০
টাকা দিয়ে বাঁশ কিনতে পারেন আবার তাদের বাঁশ ফেরত দিলে তারা আপনাকে ২০
টাকা ফিরত দিবে । পাহাড়ে ওঠার সময় লক্ষ্য করবেন দুটি রাস্তা। আপনারা
অবশ্যই কাঁচা রাস্তা দিয়ে উপরে উঠবেন আর নিচে নামার সময় অবশ্যই সিরির
রাস্তা ব্যবহার করবেন।
সহস্রধারা ও সুপ্তধারা ঝর্না
চন্দ্রনাথ
পাহাড় থেকে নেমে সিএনজি অথবা রিকশা দিয়ে ৩০-৪০ টাকা দিয়ে চলে আসবেন
ইকোপার্কে । ইকোপার্কের সামনে কিছু হোটেল দেখতে পারবেন।
সেখানে দুপুরের
খাবার এর অর্ডার দিয়ে ইকোপার্কে প্রবেশ করবেন। ইকোপার্কে প্রবেশ মূল্য ৩০
টাকা। ভিতরে প্রবেশ করে ৩০ মিনিট হেঁটে চলে যাবেন সহস্রধারা ও সুপ্তধারা
ঝর্না । ঝর্নার পানিতে গোসল করে আবার চলে আসবেন ইকোপার্কের গেইটে। সেখানে
দুপুরের খাবার খেয়ে রেস্ট নিয়ে রওনা হবেন গুলিয়াখালি সমুদ্র সৈকতের
উদ্দেশে ।
গুলিয়াখালি সমুদ্র সৈকত
সীতাকুণ্ড বাজার থেকে
সরাসরি সিএনজি অথবা অটো নিয়ে গুলিয়াখালি বীচের বাঁধ পর্যন্ত যেতে পারবেন।
গুলিয়াখালি বীচের বাঁধ পর্যন্ত অটো বাড়া ৩০/৪০ টাকা।
আবার চাইলে অটো
রিজার্ভ নিয়ে যেতে পারবেন । রিজার্ভ ভাড়া পড়বে ১৫০/২০০ টাকা। অবশ্যই
দর-দাম করে নিবেন। গুলিয়াখালি বীচের বাঁধ থেকে ৫/১০ মিনিট হেঁটে সমুদ্র
পারে চলে যাবেন । ঘুরতে গিয়ে সন্ধ্যা হয়ে গেলে অনেক সময় সিএনজি বা অটো
পাওয়া যায় না । তাই নামার সময় ড্রাইবারের নাম্বার নিয়ে রাখবেন ।
0 মন্তব্যসমূহ